আজ ২৭শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ১১ কোটি ৭৮ লাখ

নিজস্ব প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩ লোহার দানবাক্স খোলে তাতে মিলেছে এবার রেকর্ড ৩৫ বস্তা টাকা। যা দিনভর গননা শেষে পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।

তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ৩ মাস ২৭ দিন পর শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ এবং বিপুল সংখ্যক র‍্যাব,পুলিশ, সেনা বাহিনী ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ।
এ গণনার কাজে অংশ গ্রহণ করে আল জামিয়া ইমদাদিয়ার ২৫০ জন, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স মাদরাসা ও এতিমখানার ১১০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ৫০ জন ও রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারী ১০০ জন সহ পাঁচ শতাধিক মানুষের একটি দল।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট ৪ মাস ১৮দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলে পাওয়া গিয়েছিল ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।
সুপ্রাচীন এই পাগলা মসিজদের খ্যাতি ও প্রচার দিন দিনই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আর নানা ধর্মের, নানা শ্রেণির মানুষ এখানে এসে সিন্দুকে টাকা ফেলে যান। এছাড়া অনেকে গবাদি পশু আর হাঁস মুরগিও দান করে থাকেন। সেগুলো প্রতিদিন বাদ আছর প্রকাশ্য ডাকে বিক্রি করে টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়।
কেউ পরকালে নাজাতের আশায়, কেউ রোগমুক্তি, কেউ পরীক্ষায় ভালো ফল, কেউ সন্তানের আশায়, কেউ পারিবারিক শান্তির আশায়, কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠার আশায় দান করে থাকেন। সিন্দুকে আরও পাওয়া যায় অসংখ্য চিঠি আর চিরকুট যাতে লিখা থাকে মনোবাসনা পুরনের আর্জি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category